ত্রিবিক্রমভট্ট বিরচিত আর্যাবর্তবর্ণনম্ অবলম্বনে আর্যাবর্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি চিত্র অঙ্কন করো।
![]() |
| ত্রিবিক্রমভট্ট বিরচিত আর্যাবর্তবর্ণনম্ অবলম্বনে আর্যাবর্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি চিত্র অঙ্কন করো। |
উত্তর : কবি ত্রিবিক্রমভট্ট 'নলচম্পু'-র প্রথম উচ্ছ্বাসে বর্ণিত "আর্যাবর্তবর্ণনম্” পাঠ্যাংশে ভগ্নশ্লেষ অলংকারের মাধ্যমে আর্যাবর্তের এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন যা স্বর্গের সৌন্দর্যকে ছাড়িয়ে গেছে।
গঙ্গাবিধৌত পবিত্র আর্যাবর্ত — সূর্যবংশীয় রাজা ভগীরথের কীর্তিপতাকারূপিণী গঙ্গা আর্যাবর্তের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে এই দেশ সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা।
গঙ্গাতটের শোভা — অসংখ্য চঞ্চল চকোর, চক্রবাক, আর সারসশ্রেণি গঙ্গাতটের শোভা বর্ধন করে। এখানে গঙ্গার তরঙ্গগুলি যেন ভগীরথের স্বর্গারোহণের সিঁড়ির ন্যায়। প্রস্ফুটিত স্বর্ণকমল এবং রক্তপদ্মের পরাগে রঞ্জিত হংসমালার অলংকারে এই গঙ্গাতীর সদা অলংকৃত।
গ্রাম্য পরিবেশ — গ্রামে গ্রামে চতুর গোয়ালাদের বাস। পর্বতের বনাঞ্চলে হস্তিশাবকেরা ঘুরে বেড়ায়। এখানে বড়ো বড়ো কুয়োগুলি সুস্বাদু জলে পরিপূর্ণ। পিয়াল ও কাঁঠাল গাছে ভরা বন। আখখেতের মধ্যে আছে অনেক দানশালা।
চন্দ্রভাগালঙ্কৃত — শিবের জটাজালের এক অংশ যেমন চন্দ্রকলার দ্বারা অলংকৃত হয়েছে তেমনই এই আর্যাবর্ত দেশও চন্দ্রভাগা নদীর দ্বারা অলংকৃত হিমালয়ের কিশওয়ার থেকে নির্গত হয়ে চন্দ্রভাগা (উত্তর-ভারতের এক নদী) জম্বুর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে।
মূল্যায়ন — দেশপ্রেমিক কবি এইভাবে আর্যাবর্তের সৌন্দর্যের বর্ণনার দ্বারা দেশের গরিমা বৃদ্ধি করেছেন।
