আর্যাবর্তের গ্রাম ও শহরের বর্ণনা দাও।
![]() |
| আর্যাবর্তের গ্রাম ও শহরের বর্ণনা দাও। |
উত্তর :
আর্যাবর্তের গ্রাম
চতুরগোপ-শোভিতাঃ গ্রামাঃ — কবি ত্রিবিক্রমভট্ট প্রথমেই আর্যাবর্তের গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন। গঙ্গা ও চন্দ্রভাগা নদীর পবিত্র জলে পরিপুষ্ট আর্যাবর্তের গ্রামগুলি বৃক্ষ-লতা-গুল্মাদিতে পরিপূর্ণ। আর্যাবর্তের গ্রামগুলি ঘোড়ায় সাজানো যুদ্ধভূমির মতো চতুর, দক্ষ গোয়ালাদের দ্বারা সুশোভিত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা — গ্রামের পরিবেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। গ্রামের মানুষেরা প্রিয়াদের হাস্য-পরিহাসে যৌবন অতিবাহিত করত। বনগুলি পিয়াল, কাঁঠাল এবং ফলের বৃক্ষে পরিপূর্ণ ছিল। বনগুলি বৃক্ষের দ্বারা কল্যাণকর ছিল। আখের খেতে প্রচুর দানশালা ছিল, যেখানে আখের রস খেয়ে লোকেরা তৃপ্তি পেত।
সুস্থ পরিবেশ — আর্যাবর্তে ছিল অনেক বড়োবড়ো ভগ্ন কুম্ভকর্ণ যুক্ত কুয়ো। কুয়োগুলি ছিল গভীর এবং সুস্বাদু জলে পূর্ণ। সেই জল পান করে গ্রামের মানুষ পরিতৃপ্ত হয়। এখানে কুল-ললনারা সতীব্রত পালনে নিষ্কলঙ্কা সাধ্বী জীবনযাপনে অভ্যস্ত।
আর্যাবর্তের শহর
তুঙ্গসকলভবনাঃ — আর্যাবর্তের শহর বা নগরগুলির বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে নগরবাসীরা ছিল মহাধনী – তাদের উঁচু উঁচু অট্টালিকাগুলি সারিবদ্ধভাবে বিরাজমান ছিল। প্রতিটি অট্টালিকার সামনে বৃক্ষশোভিত বাটিকা বা উদ্যান ছিল।
নগরগুলি নূপুরের মতো — নূপুর যেমন পায়ের বা চলার অলংকার, তেমনই সজ্জনদের চরণ অর্থাৎ চলাফেরা আর্যাবর্তের নগরগুলির অলংকার। নগরবাসীরা তাদের সৎ আচরণে নগরের মর্যাদা ও গৌরব বৃদ্ধি করে।
দান ও ভোগকারী — আর্যাবর্তের নগরবাসী বাতাসের মতো দান ও ভোগকারী। সাধ্যমতো তারা প্রার্থীকে অভীষ্ট প্রদান করে আর সুখ ও শান্তি ভোগ করে।
