অদৃষ্টপ্রকৃতিনিপাতেপসর্গলোপসবর্ণ বিকারঃ – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
![]() |
| অদৃষ্টপ্রকৃতিনিপাতেপসর্গলোপসবর্ণবিকারঃ – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। |
উত্তর : কবি ত্রিবিক্রমভট্ট শ্লেষ অলংকারের মাধ্যমে আর্যাবর্ত দেশের সঙ্গে ব্যাকরণে অজ্ঞ ব্যক্তির তুলনা করেছেন। এখানে দুটি অর্থ লক্ষ করা যায় –
(১) ব্যাকরণগত : (ক) প্রকৃতি ধাতু ও শব্দের মূল। (খ) নিপাত – প্রাগ্রীশ্বরান্নিপাতাঃ চ, বা, স্বাহা প্রভৃতি নিপাত। (গ) উপসর্গ - ক্রিয়ার পূর্বে যোগ থাকলে প্র, পরা প্রভৃতি উপসর্গ (ঘ) লোপ অদর্শনং লোপঃ বর্ণাদির লোপ, (ঙ) সবর্ণবিকার - তুল্যাস্য প্রযত্নং সবর্ণম্ – বর্ণের বিকৃতি ব্যাকরণে শব্দগঠন বা প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও বর্ণের বিকার বা পরিবর্তন দেখা যায়, কোথাও-বা সম্প্রসারণ ঘটে, তাকে বর্ণবিকার বলে। যেমন- অদ্+ ঘঞ = ঘাস, বস্ + ক্ত = উষিত (এখানে 'ব'-এর সম্প্রসারণ 'উ' বিকার।)
(২) প্রজাসম্বন্ধে : (ক) প্রকৃতি – আর্যাবর্তের প্রজারা। (খ) নিপাত – মরণ, ধ্বংস, বিনাশ প্রভৃতি। (গ) উপসর্গ- ধনাদি অপহরণ রূপ উপদ্রব হল উপসর্গ। (ঘ) লোপ - বেদবিহিত নিয়মাদির উল্লঙ্ঘন হল লোপ। (ঙ) সবর্ণবিকার – চাতুর্বর্ণ্য (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র) ব্যবস্থার বিকৃতি।
ব্যাখ্যা — ব্যাকরণে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে প্রকৃতি, নিপাত, উপসর্গ, লোপ, সবর্ণ প্রভৃতির সংজ্ঞা যেমন অজানা ছিল, তেমনই আর্যাবর্তের প্রজাদের স্বর্গলাভাদি মহৎ কর্ম থেকে চ্যুতি-বিচ্যুতি বা বংশচ্যুতি (প্রকৃতি-নিপাত), ধনাপহরণকারী চোর-ডাকাতদের উপদ্রব (উপসর্গ), 'ব্রহ্মদায়' (বেদ + ধন) অর্থাৎ বেদশিক্ষার উত্তরাধিকার, 'দেবদায়' - নিয়মানুসারে দেবতাদের পূজা অর্চনার উত্তরাধিকার লাভ প্রভৃতি নিয়মের অবলুপ্তি (লোপ), চাতুর্বর্ত্য ব্যবস্থার বিপর্যয়/বিচ্যুতি (বর্ণবিকার) প্রভৃতি দেখা যায় না। শাস্তিবিধানে নিয়মিত প্রজাদের জীবনে স্খলন বা পতন ছিল না। তাদের জীবন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর ছিল। চোর-ডাকাতের উপদ্রব ছিল না। আর সমাজে বিশৃঙ্খলা ছিল না।
