দৃশ্যতে ন প্রজাসু। – এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? কী কী দেখা যায় না? সবিস্তারে বিষয়টি বর্ণনা করো।

দৃশ্যতে ন প্রজাসু। – এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? কী কী দেখা যায় না? সবিস্তারে বিষয়টি বর্ণনা করো।



উত্তর : ত্রিবিক্রমভট্ট রচিত "আর্যাবর্তবর্ণনম্” পাঠ্যাংশে কবি আর্যাবর্তের প্রজাদের সুস্থ জীবনের কথা বলেছেন।

বিস্তৃত ব্যাখ্যা — আর্যাবর্তের প্রজারা সবসময় ধর্মকর্মে নিরত থাকায় তারা যাবতীয় দুঃখকে জয় করতে পেরেছিল। যেমন

(১) স্ফোটবাদ : বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের মধ্যে স্ফোটবাদ (শব্দব্রন্থ) বিষয়ে পাণ্ডিত্য দেখা যায় কিন্তু আর্যাবর্তের প্রজাদের মধ্যে স্ফোট বা ফোড়া-ঘা প্রভৃতি দেখা যায় না।

(২) গ্রহসংক্রান্তি : জ্যোতিঃশাস্ত্রে সূর্যাদি বিগ্রহের এক রাশি থেকে অন্য রাশি সংক্রমণ বা গমনাগমন ছিল, কিন্তু আর্যাবর্তের মানুষের রাহু, কেতু প্রভৃতি গ্রহের দ্বারা আক্রান্ত হতে দেখা যায় না।

(৩) ভূতবিকার : সাংখ্য দর্শনে ভূতবিকারবাদ থাকলেও আর্যাবর্তের মানুষের মধ্যে ভূত-প্রেতাদির দ্বারা বিকার বা প্রভাব লক্ষ করা যায় না।

(৪) গুল্মবৃদ্ধি : আর্যাবর্তের বনভূমিতে কাণ্ডবিহীন পাতাবহুল গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বৃদ্ধি দেখা যায় কিন্তু আর্যাবর্তের মানুষের মধ্যে 'গুল্ম' অর্থাৎ পেটের রোগজাতীয় 'প্লিহা' দেখা যায় না।

(৫) গণ্ডকোত্থান : পার্বত্য বনভূমিতে 'গণ্ডার উত্থান' অর্থাৎ গন্ডার নামক হিংস্র জন্তুদের লাফালাফি দেখা যায়, কিন্তু আর্যাবর্তের প্রজাদের মধ্যে গণ্ডক (গাল)-এ হওয়া ছোটো ছোটো ফোঁড়া (ব্রণ ধরনের চর্মরোগ) দেখা যায় না।

উপসংহার — কবি ত্রিবিক্রম ভট্ট দ্ব্যর্থক (দুই অর্থ) ভাষায় এইভাবে আর্যাবর্তের প্রজাদের রোগহীন সুস্থ জীবনের চিত্র অঙ্কন করে দেশের মাহাত্ম্য কীর্তন করেছেন।