'তথা হি স্ফোটপ্রবাদো বৈয়াকরণেষু' – ত্রিবিক্রমভট্টের 'শ্লেষ' অলংকার প্রয়োগের সার্থকতা বিচার করো।
![]() |
| 'তথা হি স্ফোটপ্রবাদো বৈয়াকরণেষু' – ত্রিবিক্রমভট্টের 'শ্লেষ' অলংকার প্রয়োগের সার্থকতা বিচার করো। |
উত্তর : ব্যাকরণশাস্ত্রে পণ্ডিত ত্রিবিক্রমভট্ট 'নলচম্পু' কাব্যের প্রথম উচ্ছ্বাসে আর্যাবর্তে বসবাসকারী নীরোগ সুখী প্রজাদের বর্ণনাকালে সুকৌশলে 'শ্লেষ' অলংকারের সাহায্যে ব্যাকরণের 'স্ফোটবাদ'-এর উল্লেখ করেছেন।
শ্লেষ' অলংকার — 'স্ফোট' – (১) ব্যাকরণে শব্দব্রহ্মবাদ। (২) ফোড়া, স্ফোটক, বিস্ফোট (রোগবিশেষ)।
স্ফোট প্রবাদ — স্ফোটবাদ বা ফোড়া নামক রোগ (সুশ্রুতের মতে) লোক প্রসিদ্ধ বা জনশ্রুতি (কিংবদন্তি)। শ্রীধরের মতে স্ফোট হল – শব্দতন্মাত্র, পরাবস্থা বাক্, অব্যক্ত ওংকার। ব্যাকরণে অন্যভাবে বলা যায় – "অক্ষরাণামকারস্তুং স্ফোটক্সং বর্ণ সংশ্রয়ঃ” অর্থাৎ বর্ণের অর্থ বোধকত্ব না-থাকায়, যার বলে পূর্ব বর্ণানুভবের সঙ্গে চরম বর্ণানুভব কর্তৃক ব্যঙ্গ অর্থ প্রত্যায়ক অখণ্ড শব্দব্যাপার বিশেষ। শাব্দিকগণ বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি নয়, বর্ণের অতিরিক্ত নাদ বা ধ্বনির দ্বারা অভিব্যঙ্গ 'স্ফোট'-কেই শব্দরূপে চিহ্নিত করেছেন – "যে নেতি করণে তৃতীয়া, যেন প্রকাশিতেন স্ফোটেন সাস্নাদিমতাং জ্ঞাতং ভবতি সঃ স্ফোটঃ শব্দঃ ইত্যর্থঃ।"
ত্রিবিক্রমভট্টের উক্তি — আর্যাবর্তের নিবাসী রোগমুক্ত প্রজাদের কথা বলতে গিয়ে লেখক বলেন- এই দেশের প্রজারা নিরন্তর ধর্মকর্মের উপদেশ দ্বারা সব রকমের দৈহিক, দৈবিক এবং ভৌতিক বিপদগুলি থেকে মুক্ত হয়- “তথা হি স্ফোটপ্রবাদো বৈয়াকরণেষু।" শুধু স্ফোটবাদ (শব্দব্রহ্মবাদ) ব্যাকরণজ্ঞদের জানা। অন্যভাবে বলা যায় – সামান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ফোড়া-ফুসকুড়ি (রোগবিশেষ) ছিল না।
মূল্যায়ন – রোগমুক্তির কথা বলতে গিয়ে ব্যাকরণবিদ লেখক শ্লেষের মাধ্যমে স্ফোটবাদের উল্লেখ করেছেন।
