'ভূতবিকারবাদঃ সাংখ্যেযু' – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে 'ভূতবিকারবাদ'-এর ব্যাখ্যা করো।
![]() |
| 'ভূতবিকারবাদঃ সাংখ্যেযু' – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে 'ভূতবিকারবাদ'-এর ব্যাখ্যা করো। |
উত্তর : নানা শাস্ত্রে পণ্ডিত ত্রিবিক্রমভট্ট 'নলচম্পু' কাব্যের প্রথম উচ্ছ্বাসে আর্যাবর্তের রোগমুক্ত সুখী প্রজাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে 'ভূতবিকারবাদ'-এর কথা বলেছেন।
লেখক বলেছেন — পৃথিবী, অপ (জল), তেজ, বায়ু, আকাশ প্রভৃতি পঞ্চভূত তত্ত্বের বিকৃতি সাংখ্যদর্শনে আছে, কিন্তু প্রাণীদের মধ্যে 'ভূতবিকারবাদ' অর্থাৎ ভূত-প্রেতাদির উপদ্রব বা বিকার ছিল না।
সাংখ্যদর্শনে ভূতবিকারবাদ — সাংখ্যদর্শনে বলা হয়েছে – জগতের অভিব্যক্তির স্তর উপলব্ধির ক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হয় পঞ্চবিংশতি তত্ত্বের দিকে। এই পঞ্চবিংশতি তত্ত্ব হল যথাক্রমে – প্রকৃতি, মহৎ, অহংকার, মন, পঞ্চ তন্মাত্র (শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ), পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় (কর্ণ, নাসিকা, চক্ষু, জিহ্বা, ত্বক), পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় (বাক, পাণি, পাদ, পায়ু, উপস্থ), পঞ্চ মহাভূত (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম) এবং অপরিণামী পুরুষ।
জগতের অভিব্যক্তিতে সাংখ্যের সিদ্ধান্ত হল ধানের বীজ থেকে অঙ্কুর, অঙ্কুর থেকে পাতা, পাতা থেকে নাল ইত্যাদি ক্রমে যেমন সকলের শেষে তন্ডুল হয়, তেমনই প্রকৃতি থেকে মহদাদিক্রমে সকলের শেষে স্থূল পঞ্চভূত সৃষ্ট হয়। প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগে মহৎ-আদি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এদের আবার প্রকৃতি, বিকৃতি, প্রকৃতি-বিকৃতি, প্রকৃতি-বিকৃতি শূন্য প্রভৃতি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। এই আলোচনাকে ভূতবিকারবাদ বলে।
মূল্যায়ন – ভারতীয় দর্শনশাস্ত্রে বিশেষত সাংখ্যদর্শনে পণ্ডিত ত্রিবিক্রমভট্ট এইভাবে রোগমুক্ত সুখী প্রজাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে 'ভূতবিকারবাদ' তত্ত্বের উল্লেখ করেছেন।
