ত্রিবিক্রমভট্ট 'আর্যাবর্তবর্ণনম্'- এ 'ব্যাধি' বলতে কী বলেছেন তা আলোচনা করো।

ত্রিবিক্রমভট্ট 'আর্যাবর্তবর্ণনম্'- এ 'ব্যাধি' বলতে কী বলেছেন তা আলোচনা করো।


উত্তর : 'নলচম্পু' প্রণেতা ত্রিবিক্রমভট্ট "আর্যাবর্তবর্ণনম্”-এ প্রজাদের সুখশান্তির প্রাপ্তি বিষয়ে সকল ব্যাধির (সমস্ত ব্যাধি ব্যতিকরাঃ) প্রসঙ্গ এনেছেন। এখানে 'ব্যাধি' বলতে সমস্ত বিপত্তি বা বিপদের কথা বলেছেন।

দুঃশত্রায় — প্রাণী-মাত্রেরই দুঃখ তিন প্রকারে আসে। যেমন –

(১) আধ্যাত্মিক দুঃখ : শরীর ও মন সম্বন্ধীয় সব বিপত্তি (দুঃখ)-ই যথাক্রমে শারীরিক ও মানসিক বলা হয়। শারীরিক দুঃখ, যেমন - বিভিন্ন ব্যাধিজনিত কষ্ট। বাত, পিত্ত এবং শ্লেষ্মা - এই তিনপ্রকার শরীর ধাতুর বৈষম্য হেতু দুঃখ জন্মে। কাম (ভোগের ইচ্ছা, লালসা), ক্রোধ, লোভ, মোহ, ভয়, ঈর্ষা, বিষণ্ণতা ও বিষয় বিশেষের অর্থাৎ যে বিষয় পেতে একান্ত ইচ্ছা থাকে, না-পেলেই মনে দুঃখ জন্মে। উপরের কথিত সমস্তই আন্তর (শরীরের অন্তর্ভূত) পদার্থ দ্বারা উৎপন্ন হয় বলেই একেই আধ্যাত্মিক দুঃখ বলে।

(২) আধিভৌতিক দুঃখ : ভূত শব্দে প্রাণীমাত্র এবং ক্ষিত্যাদি পঞ্চ উভয়বিধই থেকে উৎপন্ন দুঃখকে আধিভৌতিক দুঃখ বলে। মনুষ্য, পশু, পক্ষী, সরীসৃপ (কৃকলাস) ও স্থাবর (স্থিতিশীল, ভূমি পর্বতাদি) জন্য এই দুঃখ হয়ে থাকে। বাঘ, শিয়াল, কুকুর, মশকাদি দংশনজনিত দুঃখ, দস্যু তস্করাদি থেকে আগত দুঃখ এই প্রকার দুঃখ।

(৩) আধিদৈবিক দুঃখ : আধিদৈবিক - অধিদেব + স্নিক, দেবতা সম্বন্ধীয়। তাই দেবতার কোপে অথবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যেসব দুঃখ উপস্থিত হয়, তা সবই আধিদৈবিক দুঃখ। এই শ্রেণির দুঃখ হল – ভূমিকম্প, বজ্রপাত, ঘূর্ণিবাত্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি।

মূল্যায়ন — সর্বশাস্ত্রে পণ্ডিত ত্রিবিক্রমভট্ট 'সমস্ত-ব্যাধি' বলতে এই তিন ধরনের 'দুঃখত্রয়' বা বিপত্তির কথা বলেছেন।