'কিং বহুনা....।' — এই কথার দ্বারা লেখক আর কী বলতে চেয়েছেন?
![]() |
| 'কিং বহুনা....।' — এই কথার দ্বারা লেখক আর কী বলতে চেয়েছেন? অথবা "দেশঃ পুণ্যতমোদ্দেশঃ কস্যাসৌ ন প্রিয়ো ভবেৎ।" কে, কাকে পুণ্যতম দেশ ও প্রিয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং কেন? |
উত্তর : ত্রিবিক্রমভট্ট "আর্যাবর্তবর্ণনম্" পাঠ্যাংশে পুণ্যতম দেশ আর্যাবর্তের মাহাত্ম্য কীর্তন প্রসঙ্গে 'কিং বহুনা' বলতে গিয়ে বলেছেন —
"দেশঃ পুণ্যতমোদ্দেশঃ কস্যাসৌ ন প্রিয়ো ভবেৎ।"
কবি ত্রিবিক্রমভট্ট আরও বলেছেন যে, এই দেশ লোকের দ্বারা অনুক্রোশ যোজন যুক্ত বা দয়ার দ্বারা সমৃদ্ধ পুণ্যতম দেশ, যার উত্তর ভাগে ঊর্ধ্ব (উচ্চ) ভাগযুক্ত হিমালয় আছে। এরকম আর্যাবর্ত কার-না প্রিয় হয় অর্থাৎ সকলের প্রিয় জন্মভূমি।
পুণ্যতম দেশ আর্যাবর্ত — কবির কল্পনায় পুণ্যতম দেশ হল আর্যাবর্ত। ভগবান মনুর মতে আর্যাবর্ত হল সেই পুণ্যতম দেশ যেটি হিমালয় ও বিন্ধ্যপর্বতের মধ্যবর্তী স্থান, যা পূর্বে ও পশ্চিমে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। সেটি হল ভারতবর্ষ।
পুণ্যতমের কারণ — স্বর্গে একমাত্র গৌরী (উমা) আছেন কিন্তু আর্যাবর্তের ঘরে ঘরে গৌরবর্ণা বা শুদ্ধ ভাবসম্পন্না নারী আছে। স্বর্গে একজন মহেশ্বর আছেন কিন্তু আর্যাবর্তের ঘরে ঘরে অতি সমৃদ্ধ মানুষ আছে। স্বর্গে একজন বিন্নু (হরি) আছেন, আর্যাবর্তের ঘরে ঘরে শোভাযুক্ত ঘোড়া আছে। স্বর্গে একজন কুবের (ধনদ) আছে, কিন্তু আর্যাবর্তের স্থানে স্থানে ধনদাতা তথা লোকপাল/ লোকরক্ষক আছে। তা ছাড়া, স্বর্গে দেবতাদের রাজা সুরাধিপ ইন্দ্র আছেন, কিন্তু আর্যাবর্তে মদ্যপানকারী রাজা নেই। স্বর্গে একজন বিনায়ক (গণেশ) আছেন, কিন্তু আর্যাবর্তে রাজার বিরুদ্ধাচারী (বি-নায়ক) কেউ নেই। তাই আর্যাবর্ত স্বর্গের থেকেও বড়ো।
