'সমস্ত ব্যাধিব্যতিকরাঃ পুরুষায়ুষজীবিন্যঃ' — পুরুষ প্রমাণ পর্যন্ত প্রজাদের জীবিত থাকার কারণগুলি বলো।

'সমস্ত ব্যাধিব্যতিকরাঃ পুরুষায়ুষজীবিন্যঃ' — পুরুষ প্রমাণ পর্যন্ত প্রজাদের জীবিত থাকার কারণগুলি বলো।



উত্তর : "আর্যাবর্তবর্ণনম্" পাঠ্যাংশে লেখক ত্রিবিক্রমভট্ট আর্যাবর্তে বসবাসকারী প্রজাদের পুরুষ প্রমাণ পর্যন্ত জীবিত থাকার কারণগুলি ব্যাখ্যা করেছেন।


কারণসমূহ — সমস্ত প্রজা সুখে বাস করত। কারণ — (১) সেদেশে কোনো প্রকার রোগ বিশেষত কুষ্ঠ রোগ ছিল না। কোনো ওষুধের দোকান ছিল না। ছিল কেবল সুগন্ধি বিক্রির দোকান। (২) সামান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ফোড়া-ফুসকুড়ি (রোগবিশেষ) ছিল না। (৩) প্রজাদের মধ্যে সন্নিপাত (রোগবিশেষ) ছিল না। (৪) আর্যাবর্তে বসবাসকারীদের মধ্যে কোনো সংক্রমণ বা 'গ্রহকলহ' ছিল না। কেউ গ্রহকলহে আক্রান্ত ছিল না। গ্রহকৃত দুর্দৈব ঘটনা বা রাহুকৃত পীড়ন বা রাহুগ্রাস ছিল না। (৫) প্রাণীদের মধ্যে ভূত-প্রেতাদির উপদ্রব বা বিকার ছিল না। (৬) ক্ষয় প্রতিপদাদি তিথিগুলিতেই থাকত, প্রজাদের মধ্যে ক্ষয়রোগ ছিল না। (৭) গুল্মলতা বৃদ্ধি বনভূমিতেই ছিল। প্রাণীদের মধ্যে গুল্মরোগ ছিল না। গুল্মরোগ হল প্লিহারোগ। এই রোগের প্রতিষেধক হল আমলকী। (৮) গল-গ্রহণ (গলায় ফাঁস লাগানো) মাছেদের মধ্যে ছিল। অন্য প্রজাদের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগানোর ব্যাপার ছিল না। (৯) গণ্ডক (গন্ডার)-এর উত্থান পর্বত ও বনে দেখা যায়। প্রজাদের মধ্যে ফোড়া গণ্ডস্থলে বের হত না। (১০) শূল নামক অস্ত্র চণ্ডীদেবীর মন্দিরে দেখা যায়, কিন্তু কোনো প্রজার মধ্যে অম্লশূল নামক রোগ দেখা যেত না।