'কথং চাসৌ স্বর্গান্ন বিশিষ্যতে' — এই অংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
![]() |
| 'কথং চাসৌ স্বর্গান্ন বিশিষ্যতে' — এই অংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। |
উত্তর : 'নলচম্পু' কাব্যের রচয়িতা ত্রিবিক্রমভট্ট “আর্যাবর্তবর্ণনম্” পাঠ্যাংশে আর্যাবর্ত নামক দেশের মাহাত্ম্য কীর্তন করতে গিয়ে উপরোক্ত কথা বলেছেন।
তাৎপর্য — আর্যাবর্তকে স্বর্গের চেয়ে বড়ো বলে মনে করা হয়েছে — "কথং চাসৌ স্বর্গান্ন বিশিষ্যতে।" আর্যাবর্তকে স্বর্গের থেকে বড়ো বলে মনে করার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে- (১) আর্যাবর্তে বসবাসকারী ব্যক্তিগণ সর্বদা প্রসন্নচিত্ত থাকেন। স্থানটি শোভন রাজ্য হিসাবে বিবেচিত - "সৌরাজ্য-রঞ্জিত মনসঃ।” অর্থাৎ, উত্তম রাজ্য হওয়াতে সকলে আনন্দে থাকেন। (২) উত্তম রাজ্য সকল প্রকার সমৃদ্ধির দ্বারা সমৃদ্ধ দেশ- "সকল-সমৃদ্ধি বর্ধিতঃ।" (৩) এই দেশ মহোৎসবের পরম্পরা বা প্রথা মেনে চলে “মহোৎসব পরম্পরারম্ভনির্ভরাঃ।" (৪) উত্তমগুণযুক্ত ব্যক্তি সর্বদা অকুলীন অর্থাৎ কুলহীন পৃথিবীতে লীন থাকে না এমন দেবতাকে, অহংকারহীন ব্যক্তি দেবরথ প্রাপ্ত দেবতাকে, অনেক ধনশালী কিছু অল্পধনপ্রাপ্ত দেবতাকে উপহাস করেন। তাঁরা উপহাস করে বলেন - আর্যাবর্ত কী কারণে স্বর্গের সমান বড়ো নয় অর্থাৎ আর্যাবর্ত স্বর্গের থেকে সবদিক দিয়ে বড়ো।
পরিশেষে ত্রিবিক্রমভট্ট বলেছেন স্বর্গে উমা (গৌরী), মহেশ (শিব), হরি (বিষ্ণু), ধনদ (কুবের) কেবল একজন, কিন্তু আর্যাবর্তের ঘরে ঘরে স্ত্রীরা, মহান সমৃদ্ধি, শোভাযুক্ত ঘোড়া, ধনদাতা, তথা লোকপাল আছে। স্বর্গে দেবতাদের রাজা সুরাধিপ ইন্দ্র আছেন কিন্তু এখানে মদ্যপায়ী রাজা নেই। স্বর্গে বিনায়ক (গণেশ) থাকেন কিন্তু এখানে রাজার বিরুদ্ধাচারী কেউ নেই। তাই এই দেশ মহান।
