'জায়ন্তে ন তু লোকস্য কদাপি চ বিপল্লবাঃ'— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আর্যাবর্তের পরিবেশ সম্বন্ধে যা জানো লেখো।
![]() |
| 'জায়ন্তে ন তু লোকস্য কদাপি চ বিপল্লবাঃ'— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আর্যাবর্তের পরিবেশ সম্বন্ধে যা জানো লেখো। |
উত্তর : ত্রিবিক্রমভট্ট "আর্যাবর্তবর্ণনম্" পাঠ্যাংশে আর্যাবর্তের মাহাত্ম্য কীর্তন করেছেন। তিনি আর্যাবর্তের পরিবেশ, গ্রাম, নগর প্রভৃতির বর্ণনা প্রসঙ্গে বিপদহীন মানুষের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন —
"ভবন্তি ফাল্গুনে মাসি বৃক্ষশাখা বিপল্লবাঃ। জায়ন্তে ন তু লোকস্য কদাপি চ বিপল্লবাঃ।"
অর্থাৎ, গাছের শাখাগুলি ফাল্গুন মাসে বসন্ত ঋতুতে পল্লবহীন হয়ে পড়লেও নিষধরাজার সুশাসনে কখনও মানুষদের বিপদের লেশমাত্র দেখা দিত না।
পরিবেশ — আর্যাবর্তের পরিবেশ, গ্রাম, নগর প্রভৃতি অত্যন্ত মনোরম। সেখানকার গ্রামগুলি অশ্ব দিয়ে সংগ্রামের মতো সুসজ্জিত থাকে। পাহাড়গুলি বনবেষ্টিত এবং হস্তিশাবকে পরিপূর্ণ। নগরগুলি উঁচু উঁচু অট্টালিকার দ্বারা, উত্তম আচরণের দ্বারা অর্থাৎ সবসময় পায়ে নূপুর দ্বারা শোভিত। সেখানে বসবাসকারী লোকজন সর্বদা আকাশে চলমান ঝড়ের মতো গতিশীল অথবা দান তথা ভোগযুক্ত লোকের সমাগম। আর্যাবর্তে অবস্থিত বনগুলি কান্তাদের কথোপকথনরূপী তত্ত্বস্বরূপ যৌবনের সমান পিয়াল এবং কাঁঠাল ফলযুক্ত। বিট বা লম্পট পুরুষদের দ্বারা ঘেরা সেবিকাদের মতো বাটিকা বা আবৃত স্থান। নিবৃত্তি বা সুখস্থানগুলি সুন্দর রমণী বা কলত্রের মতো সমান। আখের খেতে দানশালা আছে। সেখানে মানুষ তার রসনিবৃত্তি করে। রাবণের অনুচরেরা ক্রুদ্ধ বানরদের দ্বারা পীড়িত। কূপগুলি গভীর জলে পরিপূর্ণ। কুলবধূরা সাধ্বীদের ব্রত পালনের ফলে তাদের সমস্ত দোষ দূর হয়েছে এবং সূর্যের কিরণের মতো কান্তিযুক্ত হয়েছে।
মূল্যায়ন — এইভাবে লেখক শ্লেষ অলংকারের মাধ্যমে আর্যাবর্তের পরিবেশ সুচারু ভাষায় বর্ণনা করেছেন।
