ত্রিবিক্রমভট্ট বিরচিত 'আর্যাবর্তবর্ণনম্' পাঠ্যাংশের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
![]() |
| ত্রিবিক্রমভট্ট বিরচিত 'আর্যাবর্তবর্ণনম্' পাঠ্যাংশের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। |
উত্তর : ত্রিবিক্রমভট্ট তাঁর চম্পৃকাব্যের নামকরণ নায়ক রাজা নলের নামানুসারে করেছেন। সপ্তম উচ্ছ্বাস বিশিষ্ট চম্পুকাব্যের নাম রাখা হয়েছে 'নলচম্পু'। কিন্তু পাঠ্যাংশের নামকরণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সদস্যবৃন্দ। 'নলচম্পু'-র প্রথম উচ্ছ্বাসের কিছু অংশ এখানে পাঠ্যরূপে বিবেচিত হয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে “আর্যাবর্তবর্ণনম্”।
'আর্যাবর্ত' শব্দটির ব্যুৎপত্তি করলে দাঁড়ায় - আর্য-আ-বৃৎ + ঘঞ (অধিকরণ বাচ্যে)। অর্থ হল- যেখানে আর্যগণ আবর্তিত অর্থাৎ বারবার জন্মগ্রহণ করেছেন বা ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সেই স্থানের নাম আর্যাবর্ত।
'আর্যাবর্তবর্ণনম্' শব্দটির অর্থ হল - আর্যাবর্তের বর্ণনা আছে যেখানে। প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে আর্যাবর্ত বলতে ভারতবর্ষকে বোঝানো হয়েছে। আর্যাবর্তের নানা বৈশিষ্ট্য, যেমন তার স্থানমাহাত্ম্য, মানুষের আচার-ব্যবহার, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ প্রভৃতির বর্ণনা আলোচ্য পাঠ্যাংশে থাকায় সংসদের সদস্যবৃন্দ এর নামকরণ করেছেন "আর্যাবর্তবর্ণনম্”। পাঠ্যাংশের প্রথম অনুচ্ছেদের শেষ চরণে লেখক 'আর্যাবর্ত' নাম ব্যবহার করে বলেছেন — “আচার্যভবনমার্যমর্যাদোপদেশানামার্যাবর্তো নাম দেশঃ।” সমস্ত অনুচ্ছেদ জুড়ে রয়েছে 'আর্যাবর্ত' নামক মহান দেশের বিস্তৃত পরিচয়। এই আর্যাবর্ত যে ভারতবর্ষ তার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বলেছেন- "দেশঃ পুণ্যতমোদেশঃ কস্যাসৌ ন প্রিয়ো ভবেৎ।" অতএব বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে পাঠ্যাংশের নামকরণ "আর্যাবর্তবর্ণনম্” যথাযথ হয়েছে।
