'ভগীরথভূপালকীর্তিপতাকয়া স্বর্গগমনসোপান বীথীয়মানরিঙ্গত্তরঙ্গয়া গঙ্গয়া পুণ্যসলিলঃ' — ভগীরথভূপালের সঙ্গে পুণ্যসলিল গঙ্গার পৌরাণিক কাহিনি সংক্ষেপে লেখো।

"ভগীরথভূপালকীর্তিপতাকয়া স্বর্গগমনসোপান বীথীয়মানরিঙ্গত্তরঙ্গয়া গঙ্গয়া পুণ্যসলিলঃ" — ভগীরথভূপালের সঙ্গে পুণ্যসলিল গঙ্গার পৌরাণিক কাহিনি সংক্ষেপে লেখো।


উত্তর : দেশভক্ত কবি ত্রিবিক্রমভট্ট আর্যাবর্তের মাহাত্ম্য বর্ণনা প্রসঙ্গে পৌরাণিক কাহিনি বিবৃত করেছেন। তখন তিনি ইক্ষাকুবংশীয় ধর্মাত্মা মহারাজ ভগীরথ এবং পুণ্যসলিলা গঙ্গার কথা বলেছেন। তাঁর মতে আর্যাবর্ত পুণ্যতম দেশ। কারণ রাজা ভগীরথের কীর্তিপতাকার দ্বারা তৈরি স্বর্গে পৌঁছোনোর সিঁড়ির মতো গলির মধ্যে প্রবাহিত পুণ্যসলিল গঙ্গানদী দেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

পৌরাণিক কাহিনি — রামায়ণ ও মৎস্যপুরাণ থেকে জানা যায় ইক্ষ্বাকুবংশীয় সগর রাজার অধস্তন পঞ্চম পুরুষ হলেন ভগীরথ। তিনি দিলীপের পুত্র। ভগীরথ অষ্টাবক্র মুনির আশীর্বাদে মাংসপিণ্ড রূপ বিকলাঙ্গ থেকে উত্তম দেহ লাভ করেন। কপিল মুনির অভিশাপে ভস্মীভূত পিতৃপুরুষদের উদ্ধারের জন্য তিনি শিবের তপস্যা করে শিবকে সন্তুষ্ট করেন এবং হিমালয় কন্যা গঙ্গার প্রবল বেগকে ধারণে রাজি করান। গঙ্গা অতিবেগে মহাদেবের মস্তকের উপর পতিত হলে শিব তাঁকে মস্তকে জটার মধ্যে আবদ্ধ করেন। তারপর ভগীরথের অনুরোধে গঙ্গাকে জটা থেকে সাতটি ধারায় ভূতলে অবতরণ করান। গঙ্গার তিনটি প্রবাহ পূর্বদিকে এবং অন্য তিনটি প্রবাহ পশ্চিমদিকে প্রবাহিত হয়। আর-একটি প্রবাহ ভগীরথকে অনুসরণ করে চলে। ভগীরথ সেই স্রোতের পথ নির্দেশ করে দিয়েছিলেন বলে এই প্রবাহের নাম হয় 'ভাগীরথী'। ভগীরথ দিব্যরথে আরোহণ করে গঙ্গার সঙ্গে পাতালে যান। সেখানে গঙ্গা সগর-সন্তানদের ভস্মরাশির উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে তাঁরা মুক্তিলাভ করে স্বর্গে যান।

মূল্যায়ন — পুরাতত্ত্ববিদ কবি ত্রিবিক্রম এইভাবে আর্যাবর্ত নামক মহান দেশের গুণকীর্তন করতে গিয়ে ভগীরথভুপাল ও গঙ্গার প্রসঙ্গ এনেছেন।