'ভীম ইব ভারতালঙ্কারভূতঃ, অগ্রণীঃ সর্ববিষয়াণাম্' — রাজতন্ত্রের যুগে আর্যাবর্তের বর্ণনায় দুজন রাজার পরিচয় দাও।

'ভীম ইব ভারতালঙ্কারভূতঃ, অগ্রণীঃ সর্ববিষয়াণাম্' —  রাজতন্ত্রের যুগে আর্যাবর্তের বর্ণনায় দুজন রাজার পরিচয় দাও।



উত্তর : ত্রিবিক্রমভট্ট আর্যাবর্তের বর্ণনায় নিষধ দেশের দুই রাজার পরিচয় দিয়েছেন।

বীরসেন — 'নলচম্পু' কাব্যের নায়ক রাজা নলের পিতা বীরসেন। তাঁর মনোবৃত্তি অত্যন্ত উদার এবং তাঁর আজ্ঞা অখণ্ডনীয় ছিল। তিনি শত্রুদের কাছে ছিলেন ভয়ংকর। তিনি শরণাগতের রক্ষাকর্তা (দেশশ্চ শরণ্যঃ), তিনি বিদ্বান, বুদ্ধিমান, দূরদর্শী ছিলেন। ধার্মিক রাজাকে প্রজারা ভক্তি করত (ধাম ধর্মস্য)।

পুণ্যতম দেশের পুণ্যশ্লোক রাজা নল — 'নলচম্পু' কাব্যের নায়ক বীরসেনের পুণ্যশ্লোক পুত্র রাজা নল। নিষধ দেশের রাজা ধীরললিত নল। তাঁকে পাওয়ার জন্য ভীমের কন্যা দময়ন্তী স্বর্গের দেবতাদের পর্যন্ত তুচ্ছজ্ঞান করেন। নলের অক্ষয়কীর্তি দেশদেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ইন্দ্রাদি লোকপালগণ দময়ন্তীর স্বয়ংবরে অসাধারণ সুন্দর বীর নলকে দূতরূপে দময়ন্তীর কাছে পাঠায়। দময়ন্তীর প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও নল ধৈর্য হারাননি। একদিকে দময়ন্তীর প্রতি প্রেম, অন্যদিকে দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশ। স্বার্থ ও পরার্থের দ্বন্দ্বে নলরাজ পরার্থকে বেছে নিলেন। দেবতাদের অদৃশ্যত্বের বরদানে দময়ন্তীর অন্তঃপুরে প্রবেশ করেন। তখন অন্তরের মনুষ্যপ্রেম জেগে ওঠে। দময়ন্তীকে দেখে নল মুগ্ধ হলেন। তবুও কর্তব্যে তিনি অবিচল। নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে দেবকার্যে ব্রতী হয়ে ধৈর্য পরাকাষ্ঠার প্রমাণ দিয়ে ধীর-ললিত, উৎকৃষ্ট গুণযুক্ত মহাপুরুষের আসন লাভ করেন।

"পুণ্যশ্লোকো নলো রাজা পুণ্যশ্লোকো যুধিষ্ঠিরঃ। পুণ্যশ্লোকা চ বৈদেহী পুণ্যশ্লোকো জনার্দনঃ।।”