আর্যাবর্তের বর্ণনা প্রসঙ্গে কবি ত্রিবিক্রমভট্ট কীভাবে গঙ্গা, শিবের জটাজাল ও চন্দ্রভাগার উল্লেখ করেছেন – তার বর্ণনা দাও।




উত্তর : পুণ্যসলিল গঙ্গা কবি গঙ্গার বর্ণনা দিয়েছেন এইভাবে —

(১) নীরসস্য মনোহর : আর্যাবর্ত দেশের প্রজাদের সুখ-সমৃদ্ধির একটা বড়ো কারণ পুণ্যতোয়া গঙ্গা। এই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আর্যাবর্ত নীরসস্য [নীর (জল) + সস্য (শস্য)] মনোহর অর্থাৎ উৎপন্ন শস্যের দ্বারা মনোহর অর্থাৎ সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা।

(২) ভগীরথ-ভূগাল-কীর্তিপতাকা : সগরবংশীয় রাজা ভগীরথ ঋষিশাপে ভস্মীভূত পূর্বপুরুষদের মুক্তির জন্য ব্রহ্মার কমণ্ডলু থেকে স্বর্গবাহিনী গঙ্গাকে মর্ত্যে অবতরণ করিয়েছিলেন। তাই গঙ্গাকে রাজা ভগীরথের কীর্তি-পতাকারূপে তুলনা করা হয়েছে।

(৩) স্বর্গগমনের সোপান-স্বরূপিণী : কবির ভাষার গঙ্গা স্বর্গারোহণের সোপানস্বরূপিণী। স্বর্গে যাওয়া সিঁড়ির ধাপের মতো তরঙ্গায়িত ঢেউয়ে ভরা এই পবিত্র গঙ্গা।

(৪) পরাগে রঞ্জিত হংসমালায় শোভিত : প্রস্ফুটিত সোনালি ও নীলপদ্মের থেকে ছড়িয়ে পড়া রেণুসমূহের দ্বারা হলুদ হয়ে যাওয়া কলহংসের ন্যায় গঙ্গা শোভিত।

(৫) অলংকৃত গঙ্গাতীর : প্রচুর অতিচঞ্চল চকোর, চক্রবাক আর সারস-ঝাঁকে শোভিত গঙ্গার তীর।

শিবের জটাজাল — পুরাণে শোনা যায় গঙ্গা স্বর্গ থেকে বেগে মর্ত্যে এলে শিব তাঁর জটাজালে তাঁকে আবদ্ধ করেন। পরে সেই জটাজাল থেকে বেরিয়ে মর্ত্যে এসেছিল বলেই গঙ্গার পবিত্র জল যেমন জটাজালকে ধৌত করেছে তেমনই আর্যাবর্তকে গঙ্গা ধৌত করেছে (পশুপতি জটাবন্ধ ইব....)।

চন্দ্রভাগালংকৃতা — শিবের জটাজালের এক অংশ যেমন চন্দ্রকলার দ্বারা অলংকৃত তেমনই এই আর্যবর্ত দেশকেও চন্দ্রভাগা নদী (পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত উত্তর ভারতের এক নদী) অলংকৃত করেছে। আর্য মতে চন্দ্রভাগ পর্বত থেকে এর উদ্ভব।