কবি ত্রিবিক্রভট্ট কীভাবে ভগ্নশ্লেষ অলংকারের সাহায্যে রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে আর্যাবর্তের অঞ্চলের সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন – তা উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
![]() |
| কবি ত্রিবিক্রভট্ট কীভাবে ভগ্নশ্লেষ অলংকারের সাহায্যে রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে আর্যাবর্তের অঞ্চলের সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন – তা উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও। |
উত্তর : রসস্রষ্টা কবি ত্রিবিক্রমভট্ট শ্লেষ অলংকারে ভারতবর্ষের আর্যাবর্ত অঞ্চলের সুপেয় গভীর জলপূর্ণ কুয়োগুলির অবস্থান বর্ণনা করেছেন।
ভগ্নশ্লেষ অলংকারের প্রয়োগ — ভারতবর্ষের একটি অঞ্চল আর্যাবর্তের সুপেয় গভীর জলপূর্ণ কুয়োগুলির বর্ণনা প্রসঙ্গে কবি বলেছেন - "কুপিত-কপি-কুলাকুলিতা লঙ্কেশ্বর-কিংকরা ইব তগ্নকুম্ভকর্ণঘনস্বাপাঃ কৃপাঃ।” অর্থ হল (আর্যাবর্তে) কুদ্ধ বানরদের দ্বারা ব্যতিব্যস্ত (কুপিত-কলিকুল-আকুলিতাঃ) রাবণের অনুচরেরা (লঙ্কেশ্বর-কিংকরাঃ) যারা কুম্ভকর্ণের গাঢ় ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছিল (ভগ্ন-কুম্ভকর্ণ-ঘন-স্বাপাঃ) তাদের মতো, পাশে পড়ে থাকা কানা ভাঙা কলশির সঙ্গে গভীর ও সুস্বাদু জলে পূর্ণ (ভগ্ন-কুম্ভ-কর্ণ-ঘন-সু-আপাঃ) অনেক কুয়ো আছে।
আর্যাবর্তের কুয়োগুলি — আর্যাবর্ত অঞ্চলের বিশেষত্ব হল বড়ো বড়ো কুয়ো। তার পাশে পড়ে রয়েছে কানা ভাঙা কলশি। কুয়োগুলি গভীর ও তার জল অত্যন্ত সুস্বাদু [(ভগ্ন-কুম্ভ-কর্ণ-ঘন-সু (সুস্বাদু)-আপাঃ (জল)]। কুয়োর জল বেশি থাকায় কলশিতে দড়ি বাঁধতে হত না, 'ঘন' অর্থে প্রচুর, 'ঘুম' অর্থে গাঢ়। 'স্বাপাঃ' অর্থে নিদ্রা, 'সু-আপাঃ' অর্থে সুস্বাদু জল। অতএব এখানে সার্থক ভগ্নশেষ' অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে, কারণ এক শব্দকে ভেঙে দুটি অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিবিক্রমভট্টের রচনা এখানে সার্থক হয়েছে।
