জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল কাব্যের বিশেষত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো।

Source : Canva

উত্তর : বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবতের কিছুকাল পরে জয়ানন্দ মিশ্র চৈতন্যমঙ্গল কাব্য রচনা করেন। চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্যের মধ্যে জয়ানন্দের "চৈতন্য মঙ্গল" কাব্য গ্রন্থটি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এই কাব্যের প্রসিদ্ধি পালাগান হিসেবে। সাধারণ পাঠক এবং গবেষক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি করলেও ভক্ত বৈম্নব সমাজে এ গ্রন্থ মর্যাদা পায়নি — আদৃত হয়নি। জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল কাব্যে প্রদত্ত আত্মবিবরণী থেকে জানা যায় যে বর্ধমান জেলার আসাইপুরা গ্রামে বৈদ্যবংশে কবির জন্ম হয়। তার পিতার নাম সুবুদ্ধি মিশ্র, মাতার নাম রোদনী দেবী। জয়ানন্দের নামকরণ চৈতন্যদেবকৃত এমন দাবী করা হয়েছে। এই কাব্য রচনার সময় সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্ত করা যায়নি। জয়ানন্দ অপর চৈতন্য - জীবনীকাব্য রচয়িতা লোচন দাসের সমসাময়িক ছিলেন বলে অনুমান করা হয়। 

চৈতন্যমঙ্গল ৯ টি খণ্ডে বিভক্ত — আদি, নদীয়, বৈরাগ্য, সন্ন্যাস, উৎকল, প্রকাশ, তীর্থ, বিজয় ও উত্তর। আদি খণ্ড রচনায় মঙ্গলকাব্যের প্রভাব সুস্পষ্ট। দেবখন্ডের মতো এখানেও সংযোজিত হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি। চৈতন্যদেবের জন্মের কারণ বর্ণিত হয়েছে। নিষ্ঠাপূর্ণ জীবণী বর্ণনার আন্তরিকতা জয়ানন্দে নেই। চমৎকারিত্ব সৃষ্টির জন্য তিনি কিছু অভিনব তথ্য বর্ণনা করেছেন।

তার কাব্য মতে, চৈতন্যদেবের পিতৃভূমি ছিল শ্রীহট্টের কোনো অজ্ঞাত জয়পুর। তার তিরোধান সম্পর্কিত তথ্যটিও বৈম্নব সমাজে স্বীকৃত নয়। রথযাত্রার দিন সংকীর্তনরত চৈতন্যদেব পায়ে ইটের আঘাত পান। সেই আঘাতই তাঁর লোকান্তরের কারণ। তথ্যগত বিভ্রান্তি ছাড়াও সঙ্গতিবোধের অভাব এই কাব্যের অনেক স্থানে দেখা গেছে। প্রামাণ্য জীবনীকাব্য চৈতন্যমঙ্গল নয়।