চর্যাপদ প্রশ্ন উত্তর mcq | 1st Semester Bengali
| 1st Semester Bengali |
1. চর্যাপদগুলি কোন সময়ে লেখা হয়েছিল?
উত্তর : ভাষাচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাপদগুলি খ্রিস্টিয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে।
2. চর্যাপদের কয়েকজন কবির নাম লেখো।
উত্তর : চর্যাপদের কয়েকজন কবি হলেন কাহ্নপাদ এবং লুইপাদ, শান্তিপা, শবরুপা, রাউতুপা, হাড়িপা প্রভৃতি।
3. কে কখন চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন?
উত্তর : মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে চর্যার পুঁথি আবিষ্কার করেন।
4. কে কোথা থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন?
উত্তর : মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের অভিলেখাগার (গ্রন্থাগার) থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
5. কী নামে কখন চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
উত্তর : "হাজার বছরের পুরানো বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” গ্রন্থের অন্তর্গত 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' নামে ১৯১৬ খ্রি: চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।
6. চর্যাপদ কোথা থেকে, কোন সময়ে প্রথম প্রকাশিত হয়?
উত্তর : 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে ১৯১৬ খ্রি: "হাজার বছরের পুরানো বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” গ্রন্থের অন্তর্গত চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়।
7. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত চর্যাপদের পুঁথিটিতে মোট কতজন কবির কতগুলি পদ সংকলিত ছিল?
উত্তর : মোট ২৩ জন কবির সাড়ে ৪৬ টি (৪৬টি পূর্ণ ও ১ টি অপূর্ণ) পদ সংকলিত উত্তর ছিল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় কর্তৃক পুঁথিটি খন্ডিত থাকায় সব পদগুলি পাওয়া যায়নি।
8. চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন- এ কথা কে কোথায় প্রমাণ করেন?
উত্তর : চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন-এ কথা ভাষাচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর O.D.B.L (Origin and Development of Bengali Language) নামক গ্রন্থে প্রমাণ করেন।
9. চর্যাপদের মোট রচনাকার কতজন ছিলেন? চর্যাপদে কোন পদকারের পদের সংখ্যা সর্বাধিক?
উত্তর : চর্যাপদের মোট রচনাকার ছিলেন ২৩জন। চর্যাপদে কাহ্নপাদের পদের সংখ্যা সর্বাধিক।
10. চর্যাপদে কোন ধর্মের প্রকাশ ঘটেছে? চর্যাপদে ব্যবহৃত ভাষাকে কি বলা হয়?
উত্তর : চর্যাপদে শাক্তধর্মের প্রকাশ ঘটেছে। চর্যাপদে ব্যবহৃত ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা।
11. চর্যাপদের পদকর্তাদের কি নামে অভিহিত করা হয়? চর্যাপদের কবিতাগুলি প্রধানত কোন ছন্দে লেখা?
উত্তর : চর্যাপদের পদকর্তাদের সিদ্ধাচার্য নামে অভিহিত করা হয়। চর্যাপদের কবিতাগুলি প্রধানত পাদাকুলক ছন্দে লেখা।
12. চর্যার প্রাচীন পদকর্তা কে ছিলেন? চর্যার পদগুলির মূল বিষয় কী?
উত্তর : চর্যার প্রাচীন পদকর্তা ছিলেন লুইপাদ। চর্যার পদগুলির মূল বিষয় ছিল সাধনতত্ত্বের প্রকাশ।
13. "সন্ধ্যাভাষা" - বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : সন্ধ্যার ম্লান লগ্নের যেমন গভীর রহস্যময়তা ও অস্পষ্টতা থাকে, সন্ধ্যাভাষা হল তেমনই অস্পষ্ট ও রহস্যময় এক ভাষা। এই ভাষার বাইরে থাকে সাধারণ অর্থ, ভিতরে সুগভীর আধ্যাত্মিকতা। সম্যক ধ্যানের মাধ্যমে এই ভাষাকে বুঝতে হয় বলেও এর নাম সন্ধ্যা হয়ে থাকতে পারে। চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
14. 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' নামকরণ কেন হয়েছিল?
উত্তর : পন্ডিতগণ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটির উপর গবেষণা চালিয়ে সিদ্ধান্ত করেছেন যে সংগ্রহের প্রথম মুদ্রিত পুঁথি চর্যাগীতিটিই কেবলমাত্র আদি বাংলা ভাষায় লিখিত। অন্য তিনখানি পুঁথি শৌরসেনী বা পশ্চিমা অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। চর্যাগীতি পুঁথিটির আদ্যন্ত খন্ডিত বলে এর প্রকৃত নাম কী ছিল তা জানতে পারা যায় না।
15. সন্ধ্যাভাষা সম্পর্কে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কী বলেছেন?
উত্তর : সন্ধ্যাভাষা সম্পর্কে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছেন যে "সন্ধ্যাভাষার মানে আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায়না”।
16. চর্যাগুলিকে প্রধানত ক'টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়?
উত্তর : চৰ্য্যাগুলিকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
17. বাংলা কীর্তনের প্রাচীনতম নিদর্শন কী?
উত্তর : বাংলা কীর্তনের প্রাচীনতম নিদর্শন হল বৌদ্ধ চর্যাপদগুলি।
18. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাগুলি কী?
উত্তর : হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাগুলি হল বৌদ্ধ সহজিয়া মতের বাংলা গান।
19. কয়েকটি বৌদ্ধ গীতিকার নাম লেখো।
উত্তর : কয়েকটি বৌদ্ধ গীতিকা হলো লুইপাদের লুইপাদ গীতিকা, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের বজ্রাসন বজ্রগীতি, ভুসুকুর সহজ গীতি, সরহের দোহাকোষ গীতি, বিরূপের বিরূপ গীতিকা, শবরের মহামুদ্রাবজ্রগীতি ইত্যাদি।
20. চর্যাতে কীসের প্রাচীনতম রূপের সন্ধান পাওয়া যায়?
উত্তর : চর্যাতে বাংলা পয়ার ও ত্রিপদীর প্রাচীনতম রূপের সন্ধান পাওয়া যায়।
21. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মতে সর্বপ্রথম সিদ্ধাচার্য কে ছিলেন?
উত্তর : চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মতে সর্বপ্রথম সিদ্ধাচার্য ছিলেন লুই।
22. চর্যাপদের পদসংখ্যা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর : অনেকে মনে করেন "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়” গ্রন্থ ৫০ টি পদ নিয়ে সম্পূর্ণ। কিন্তু বৌদ্ধ পন্ডিত মুনিদত্ত একটি পদের টীকা করেন নি। কেউ কেউ অনুমান করেন মূল পুঁথিতে ৫১টি পদ ছিল। ড: প্রবোধ চন্দ্র বাগচি আবিষ্কৃত এই গ্রন্থের তিব্বতি অনুবাদে এই তথ্য পাওয়া যায়। তবে তিনটি পুরো ও একটি পদের শেষাংশ নষ্ট হয়েছে বলে এখন পদ সংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশ।
23. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় গ্রন্থে বর্ণিত ২৩ জন সিদ্ধাচার্য্যের পদ সংখ্যা ও পদসমষ্টি
উত্তর :
নাম — পদসংখ্যা
আর্যদেব — ৩১
কঙ্কনপাদ — ৪৪
কম্বলাম্বার — ৮
কাজুপাদ বা কৃষ্ণাচার্য — ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫
কুকুরীপাদ — ২,২০,৪৮
গুড্ডরীপাদ — ৪
চাটিলপাদ — ৫
জয়নন্দ — ৪৬
ডোম্বীপাদ — ১৪
ঢেন্টণপাদ — ৩৩
তন্ত্রীপাদ — ২৫
তাড়কপাদ — ৩৭
দারিকপাদ — ৩৪
ধামপাদ বা গুঞ্জরীপাদ — ৪৭
বিরুবাপাদ — ৩
বীণাপাদ — ১৭
ভদ্রপাদ — ৩৫
ভুসুকুপাদ — ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯
মহীধরপাদ — ১৬
লুইপাদ — ১, ২৯
শবরপাদ — ২৮, ৫০
শাস্তিপাদ — ১৫, ২৬
সরহপাদ — ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯
পুঁথিগুলি ছাপা অক্ষরে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম পুঁথিটির নাম দিয়েছিলেন "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়”।