মনসামঙ্গল কাব্যের বৈশিষ্ট্য

1st Semester

1. মঙ্গলকাব্যের সূচনায় মঙ্গলকাব্যের স্রষ্টা কবিরা গণেশাদি ও অন্যান্য দেবদেবীর বন্দনা করে কাব্য শুরু করেছেন। এই বন্দনাংশে তাঁরা হিন্দু দেবদেবীর পাশাপাশি অনেক অন্যান্য দেবতা এমনকি বৌদ্ধ, জৈন, ইসলামী দেবতাদেরও বন্দনা করতে কুণ্ঠিত হয়নি। চৈতন্য পরবর্তী মঙ্গলকাব্যগুলিতে চৈতন্য বন্দনা স্থান পেয়েছিল এক অপরিহার্য অঙ্গরূপে।

2. প্রত্যেক মঙ্গলকাব্যে গ্রন্থোৎপত্তির কারণ বর্ণনায় স্বপ্নাদেশ বা দৈবাদেশের উল্লেখ আছে। এই অংশে কবির ব্যক্তিজীবনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় এমনকি সমকালীন ইতিহাসে আঞ্চলিক পরিচয় বিবৃত হয়েছে (যেমন-মুকুন্দরামের কাব্যের অংশ)।

3. প্রত্যেক মঙ্গলকাব্যের কাহিনী দেবখণ্ড ও নরখন্ড নামে দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে দেবতার/দেবীর (প্রধানত হরগৌরী, মনসা ইত্যাদির)-জন্ম পরিচয় এবং মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে দেখা যায় কোনো শাপভ্রষ্ট দেবদেবী মর্তে মানুষরূপে জন্ম নিয়ে দেবতা বা দেবীর পূজা প্রচারে উদ্যোগী হয়েছেন।

4. মঙ্গলকাব্যের নায়কনায়িকাদের অনেকে বণিক বা তথাকথিত অন্ত্যজ শ্রেণীভুক্ত। যেমন: ধনপতি, চাঁদ শ্রীমন্ত সদাগর, ব্যধ, কালকেতু, ফুল্লরা। অনেক ক্ষেত্রে তাই সমুদ্র যাত্রারও বিবরণ আছে।

5. সংসার জীবনের বর্ণনা সূত্রে রন্ধনের বর্ণনা, নারীগণের পতিনিন্দা, নায়িকার বারোমাস্যা, চৌতিশা স্তব ইত্যাদির প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে।

6. এখানে জড়তী বা বৃদ্ধার বেশে ভক্তকে ছলনা বা শত্রুপক্ষকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা দেখা যায়।

7. প্রবাদ, প্রহেলিকা, প্রবচন ইত্যাদির উল্লেখে সমকালীন সমাজজীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। সাধভক্ষণ, অন্নপ্রাশণ, দশবিধ ক্রিয়াকর্মের নিপুণ বর্ণনাও এখানে আছে।

8. করুণরস এবং কৌতুকরসের আশ্রয়েই মঙ্গলকাব্যগুলি প্রধানত লেখা হয়েছে।

9. মঙ্গলকাব্যগুলি প্রধানত দেবমাহাত্ম্য বর্ণনার উদ্দেশ্যে রচিত। সেজন্য এখানে মাঝে মাঝে অলৌকিক বা অপ্রাকৃত ঘটনার সমাবেশ লক্ষ করা যায়।