'গ্রাম্যকবিকথাবন্ধ ইব নীরসস্য মনোহরঃ' — প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতিটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
![]() |
| "গ্রাম্যকবিকথাবন্ধ ইব নীরসস্য মনোহরঃ” — প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতিটির অর্থ পরিস্ফুট করো। |
উত্তর : প্রসঙ্গ — দশম শতাব্দীর প্রখ্যাত কবি ত্রিবিক্রমভট্ট বিরচিত 'নলচম্পু' কাব্যের প্রথম উচ্ছ্বাস "আর্যাবর্তবর্ণনম্” পাঠ্যাংশে পুণ্যতম ও সকলের প্রিয় আর্যাবর্তের সুন্দর বর্ণনা করেছেন।
উদ্ধৃতিটির অর্থ — ভারতবর্ষে 'আর্যাবর্ত' নামক দেশ সকল দেশের থেকে অগ্রগণ্য। পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য যেন এক জায়গায় মিলিত হয়েছে। এই কথা বলতে গিয়ে কবি ভগ্নশ্লেষ অলংকারে একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। গ্রাম্য কবির রচনা যেমন "নীরসস্য মনোহরঃ” অর্থাৎ নীরস মানুষের কাছে মনোহর, তেমনই এই দেশও "নীর-সস্য-মনোহরঃ" অর্থাৎ জল ও শস্যে মনোহর।
ব্যাখ্যা — মানুষের জীবনে স্থান ও কালের প্রভাব অনস্বীকার্য। মানুষ যে অঞ্চলে বাস করে, সেই অঞ্চলেরই আঞ্চলিক ভাষায় কথাবার্তা বলে থাকে। কবিদের মধ্যে ও তাঁদের রচনাতে আঞ্চলিক। ভাষা প্রাধান্য পায়। ফলে যারা শাস্ত্রে পারদর্শী নয়, সাহিত্যরসের সঠিক আস্বাদ পেতে অসমর্থ হয়, তাদের কাছে গ্রাম্য কবিদের রচনা বিশেষভাবে সমাদর লাভ করে।
অপরপক্ষে আর্যাবর্ত নামক দেশটি 'নীর' তথা জল এবং 'সস্য' (শস্য) তথা ধান্যাদি উৎপন্ন শস্যের দ্বারা মনোহর। অর্থাৎ আর্যাবর্ত দেশটি সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা।
মন্তব্য — অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী কবি ত্রিবিক্রমভট্ট 'গ্রাম্যকবি'-কে অবজ্ঞা না-করে তাঁদের রচনা যে সর্বজনবোধ্য ও সর্বজনের সমাদৃত তার প্রশংসা করেছেন।
