আর্যাবর্তের নগরপ্রদেশের বর্ণনা দাও।

আর্যাবর্তের নগরপ্রদেশের বর্ণনা দাও।


উত্তর : কবি ত্রিবিক্রমভট্ট তাঁর "আর্যাবর্তবর্ণনম্” নামক পাঠ্যাংশে ভগ্নশ্লেষ অলংকারের মাধ্যমে আর্যাবর্ত নগর প্রদেশের চমৎকার বর্ণনা করেছেন।


মনোরম অট্টালিকা — আর্যাবর্তের নগরে নগরে বহু ধনবান মানুষের বসতি ছিল। তাদের অট্টালিকাগুলি ছিল উঁচু উঁচু। সারিবদ্ধ মনোরম গগনচুম্বী অট্টালিকার সামনে বৃক্ষশোভিত বাটিকা বা বাগান ছিল।


সজ্জনশোভিত নগর — আর্যাবর্তের নগরগুলি চরণালংকারের মতো সৎ আবরণের দ্বারা দেশের গৌরব বৃদ্ধি করে। সৎব্যক্তিরা শাস্ত্রাচারের দ্বারা চালিত হয় বলে তাঁরা দেশের অলংকার স্বরূপ। নূপুর অলংকৃত করে চরণকে, আর সজ্জনদের চরণের চলাফেরা নগরের পরিবেশকে অলংকৃত করে।


সৎ নগরবাসী — নগরবাসীরা অত্যন্ত সৎ, দানাদিকর্মে পুণ্য সঞ্চয়কারী বায়ুর মতো উদার। প্রিয়জনদের সঙ্গে মধুর আলাপনরত। সাধ্যমতো তারা প্রার্থীকে অভীষ্ট প্রদান করে। আচার্য গৃহগুলি বিদ্যা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডল সৃষ্টি করে। তারা লোকপাল বা রাজার শাসন পদ্ধতিকে সাবলীল করতে সাহায্য করে।


প্রকৃতি সচেতন — নগরবাসীরা প্রকৃতি সচেতন বলেই বাড়ির সামনে থাকত বৃক্ষভরা ক্রীড়া উদ্যান। নগরে সুস্বাদু জলের কুয়ো ছিল। সেগুলি ছিল গভীর। কলশে করে এখান থেকে জল ভরা হত বলে কুয়োর পাশে ভাঙা কলশ পড়ে থাকত।


মন্তব্য — এইভাবে আর্যাবর্ত শহরের সুন্দর বর্ণনা করে কবি কাব্যনৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।